• আইপিএল ২০২৪
  • " />

     

    ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ভারতের হৃদয়ভঙ্গের আরেকটা উপাখ্যান?

    ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ভারতের হৃদয়ভঙ্গের আরেকটা উপাখ্যান?    

    ২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিই শেষ। এরপরে বিশ্বকাপটা ওয়ানডে ফরম্যাটে হোক বা টি-টোয়েন্টি, প্রতিযোগিতার নাম চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হোক বা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, বিজয়ী দলটার নাম আর কখনোই ‘ভারত’ হয়নি। দুই হাজার বাইশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে, এর আগের বছর তো পৌঁছাতে পারেনি শেষ চারেই। তবুও, মাত্র দেড় মাস পরে শুরু হতে যাওয়া আরেক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, আরো একবার ফাঁড়া কাটানোর সুযোগ থাকছে ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু কারা কাটাবেন সেই ফাঁড়া? কোন পনেরোজন শেষ পর্যন্ত উঠবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে? সব কিছু নিয়েই আলোচনা করেছে উইজডেন

    ব্যাটিং অর্ডার অনুযায়ী আলোচনাটা শুরু করা যাক। অবশ্যই, শুরুতেই নাম আসবে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান, রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলির। দুজনকেই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে রাখা উচিত কিনা, সেটা নিয়ে একটা প্রশ্ন উঠেছিল। এর কারণ তাঁদের সংগৃহীত রানের পরিমাণ নয়, বরং তাঁদের ব্যাটিংয়ের ধরণ এবং স্ট্রাইক রেট। ২০২২ বিশ্বকাপের পাওয়ারপ্লেতে ভারতের রান তোলার গতি ছিল ওভারে মাত্র ৬.০২, যা বিশ্বকাপের ষোল দলের মধ্যে চৌদ্দতম। তুলনার স্বার্থে বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ডের পাওয়ারপ্লের রানরেটটাও উল্লেখ করতেই হচ্ছে, ৮.৬০। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভারত জারছে, গত দশকে এমন ঘটনা ঘটেছে ছয়বার। ২০২২ এর সেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ উইকেটে পরাজয় তো আছেই, ওই বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, এর আগে ২০২১ এর গ্রুপপর্বে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে, ২০১৬ এর সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে। লক্ষ্যণীয় ব্যাপার, প্রতিটি ক্ষেত্রেই একাদশে পাওয়া যায় দুজন খেলোয়াড়কে। রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি।

    রোহিত-কোহলিকে নিয়ে ভাগ্য বদলাবে ভারতের? Image Source: Getty Images

    না, অবশ্যই প্রতিটি পরাজয়ের পেছনে কোনোভাবেই শুধু তাঁদের দুজনকেই দায়ী করা হচ্ছে না। এমন কী এই দুজনের পারফরম্যান্সেও বেশ তফাৎ রয়েছে। এই পরাজয়ের ম্যাচগুলোতে বিরাট কোহলির পারফরম্যান্স (গড় ৫৮.৮০ ও স্ট্রাইক রেট ১৩২) রোহিত শর্মার (গড় ২১.৩৩ ও স্ট্রাইক রেট ১১২) চেয়ে যথেষ্ট ভালো। কিন্তু ভারতীয় দলের প্রেক্ষাপটই এমন, সম্ভবত নির্বাচকরা রোহিত-কোহলির একজনকে বাদ দিয়ে দল গঠন করতে পারবেন না। তাই আগে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে ভারতের পাওয়ারপ্লের ব্যাটিং নিয়ে যত প্রশ্নই থাকুক, নিজেদের ইনিংসের শুরুর দিকের স্ট্রাইক রেট নিয়ে যত কথাই হোক, আলোচনার স্বার্থে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে রোহিত-বিরাট স্কোয়াডে তো বটেই, থাকবেন একাদশেও। রোহিতের দায়িত্ব থাকবে দ্রুতগতির শুরু এনে দেওয়া, ওয়ান ডাউনে কোহলি ধরবেন দলের হাল।

    চার নম্বর জায়গাটা সুরিয়াকুমার যাদবের জন্যই; Image Source: Getty Images

    চার নম্বরেও সুরিয়াকুমার যাদবকে রাখতেই হচ্ছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫৭ ইনিংসে ৪৫.৫৫ গড় আর ১৭১.৫৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা ব্যাটসম্যানকে দলের বাইরে রাখার প্রশ্নই আসে না। ভারতের ব্যাটিং লাইনের টপ সিক্সে সেক্ষেত্রে আরো তিনটা জায়গা খালি থাকে। রোহিত শর্মার সাথে একজন ওপেনার, নম্বর পাঁচ ও ছয়।

    ওপেনার নিয়ে আলোচনা করা যাক। সবশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের হয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তনে রোহিত শর্মার সহযোগী ছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল। ২০২৩ এর আইপিএলে দুর্দান্ত খেলা জয়সওয়াল এই টুর্নামেন্টে অনেকটাই নিষ্প্রভ। গত আইপিএলে যেখানে ৪৮.০৮ গড় আর ১৬৪ স্ট্রাইক রেটে ৬২৫ রান করেছিলেন জয়সওয়াল, টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ ইনিংসে ৮৯ গড়ে করেছিলেন ৭১২ রান। কিন্তু সেই জয়সওয়ালই এই আইপিএলের প্রথম ছয় ইনিংসে সংগ্রহ করেছেন মাত্র ১০২ রান, একবারও পৌঁছাতে পারেননি ৪০ রানে। এই ১০২ রানও যে খুব দ্রুতগতিতে এসেছে, এমনটা না। সব মিলিয়ে ৭৪টি বল মোকাবেলা করেছেন জয়সওয়াল, ১৩৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিংয়ে হাঁকিয়েছেন মাত্র একটা ছক্কা। আইপিএলের পারফরম্যান্স দিয়ে ভারত দল ঘোষিত হলে তাই জয়সওয়ালের জায়গাটা প্রশ্নের মুখে পড়তেই পারে।

    জয়সওয়াল এবং গিল, বিশ্বকাপের ওপেইং স্লটের জন্য লড়ছেন দুজনেই; Image Source: Getty Images

    জয়সওয়ালের চিন্তাটা বাড়িয়ে দিতে পারেন শুভমান গিল, ভারতের হয়ে সাদা বলের ফরম্যাটে দারুণ পারফর্ম করা এই ওপেনার রয়েছেন নির্বাচকদের রাডারেই। এখনো ভারতের হয়ে অভিষেক না হওয়া অভিষেক শর্মাও প্রথম ৬ ম্যাচে ২১১ রান নিয়ে রয়েছেন দৃষ্টির সীমানায়, যদিও বিশ্ব আসরে ভারত আদৌ কোন অনভিষিক্ত খেলোয়াড়কে নিয়ে যাবে কিনা, প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে। বিশ্ব আসরে বরাবরই একটু রক্ষণশীল ভারত দল সর্বশেষ কোন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোন খেলোয়াড়ের অভিষেক ঘটিয়েছিল ২০১৪ সালে, ওয়ানডের হিসাবে সেটা ১৯৯২ বিশ্বকাপে।

    দুই ওপেনার, কোহলি আর সুরিয়াকুমার, এই নিয়েই ভারতের টপ ফোর। নম্বর পাঁচ এবং ছয়ে যথাক্রমে ষষ্ঠ বোলার এবং একজন উইকেটকিপার রাখতে চাইবে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট, যেহেতু টপ ফোরের কেউই বোলিং বা কিপিং করেন না। এটাও লক্ষ্যণীয়, যে এই ফরমেশনের কারণে একাদশ থেকে ছিটকে যেতে হচ্ছে রিংকু সিং এবং তিলক ভার্মাকে। সাত নম্বরে একজন অলরাউন্ডার থাকবেন, রিংকু বা তিলক কেউই সেই জায়গাটা নিতে পারছেন না। তিলক ভার্মা ভারতের হয়ে ১৬ ম্যাচে মাত্র ৫ ওভার বোলিং করেছেন, আইপিএলের ত্রিশ ম্যাচে তিন ওভার, আর চলমান আসরে এক ওভারও নয়। ওদিকে রিংকু তো বোলিংই করেন না, একাদশে তাই তাঁদের দুজনের জায়গা বেশ অনিশ্চিত।

    ব্যাটে-বলে সময়টা ভালো যাচ্ছে না হার্দিক পান্ডিয়ার; Image Source: Getty Images

    ষষ্ঠ বোলার হিসেবে ভারতের জন্য একটা বিকল্প হতে পারেন হার্দিক পান্ডিয়া। এখন পর্যন্ত ভারতের মূল পেস বোলিং অলরাউন্ডার তিনিই। কিন্তু এবারের আসরে, প্রথম ছয় ম্যাচ শেষে পান্ডিয়ার বোলিং ফিগারটা হতশ্রী, ১১-০-১৩২-৩। এর একটা কারণ হতে পারে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ছোট বাউন্ডারি, কিন্তু তাও, ভারতের প্রথম পছন্দের পেস বোলিং অলরাউন্ডার কোন ম্যাচেই তিন ওভারের বেশি বোলিং করবেন না, সেটা নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরদিকে, এবার আসরে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে পান্ডিয়ার স্ট্রাইক রেট ১৪৫। তবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আর ভারত দলের প্রেক্ষাপট এক নয়। হার্দিক পান্ডিয়া যদি আরেকটু কম স্ট্রাইক রেটেও ব্যাটিং করতেন, যদি বোলিংয়ে উন্নতি নাও করতেন, যদি দলের অধিনায়কত্ব নাও করতেন, তবুও অলরাউন্ডারের সংকটের কারণে মুম্বাই দলে তাঁর জায়গা মোটামুটি নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু ভারত দলের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, দলের ভারসাম্যের জন্য হার্দিকের ব্যাটিং-বোলিং দুটো ক্ষেত্রেই ভালো পারফর্ম করাটা গুরুত্বপূর্ণ।

    হার্দিকের বিকল্প পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে কাউকে চিন্তা করতে চাইলে, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে প্রথমেই আসবে শিবম দুবের নাম। কিন্তু তাতেও সমস্যা আছে। চলতি আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে বোলিং তো দূরের কথা, ফিল্ডিংয়েরও সুযোগ পাচ্ছেন না দুবে। ইমপ্যাক্ট সাবস্টিটিউশনের খাঁড়ায় পড়ে শুধু ব্যাটিংটাই করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। বোলিংয়ে তিনি কতটুকু স্বচ্ছন্দ, সেই প্রশ্নটার উত্তর তাই আপাতত অজানা।

    বিকল্প হিসেবে নীতিশ কুমার রেড্ডির নামও আসতে পারে। সম্প্রতি পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে চার নম্বরে নেমে ৩৭ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে আলোচনায় এসেছেন তিনি, সিম বোলিং করে তুলে নিয়েছেন জিতেশ শর্মার উইকেটও। কিন্তু মাত্র নয় ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নীতিশ কুমার রেড্ডির প্রথম ফিফটি ছিল এইটা, আর এই অনভিজ্ঞতার কারণেই হয়তো হার্দিক-দুবেকে পেরিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে ওঠা হবে না তাঁর। তবে শেষ পর্যন্ত যিনিই পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপে যাবেন, তাঁর ঝুলিতে চলমান আইপিএলে বোলিং করার খুব ভালো কোন অভিজ্ঞতা থাকবে বলে মনে হচ্ছে না।

    জিতেশ শর্মাই কিপিং করবেন বিশ্বকাপে? Image Source: Getty Images

    জিতেশ শর্মার কথা বলা হলো মাত্রই। ভারতের উইকেটকিপার জায়গাটার জন্য বিকল্প হিসেবে তাঁর নাম আসবেই। ব্যাটিং অর্ডারের শেষ দিকে নেমে দ্রুতগতিতে রান তোলার কাজটা বেশ ভালোভাবেই করতে পারেন তিনি। চলমান আইপিএলে অবশ্য স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে একটু পিছিয়ে আছেন তিনি। দুই হাজার বাইশের আইপিএলে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৩, তেইশে ১৫০, কিন্তু চলমান আসরে সেটা নেমে এসেছে ১৩১-এ। এটা বাড়ানোর সুযোগ এখনো আছে, কিন্তু সময়টা শেষ হয়ে আসছে দ্রুতই।

    উইকেটকিপার হিসেবে জিতেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিশাভ পন্ত। চোট থেকে ফেরার পর থেকে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তিনি। চলমান আসরে ১৫৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করছেন, যেটা তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ার স্ট্রাইক রেটের (১৪৯) চেয়েও বেশি। কিন্তু, এখানে একটা সমস্যা আছে। আইপিএলের ১০৩ ইনিংসের মধ্যে ৭২ বারই দলের টপ ফোরে ব্যাটিং করেছেন পন্ত, ভারতের হয়ে সেটা ৫৬ ম্যাচে ৩৮ বার। আর ভারতের বর্তমান দলটা যেভাবে গড়ে উঠছে, তাতে তাঁর কমফোর্ট জোন, অর্থাৎ টপ ফোরে ব্যাটিং করাটা তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভবই।

    একই কথা প্রযোজ্য লোকেশ রাহুল এবং সঞ্জু স্যামসনের ক্ষেত্রেও। ২০১৯-এর পর থেকে টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ের বাইরে লোকেশ রাহুল ব্যাট করেছেন হাতে গোণা কয়েকবার। ওদিকে সঞ্জু স্যামসন তাঁর ১৫৪ আইপিএল ইনিংসের মধ্যে ১৪৩ বারই খেলেছেন টপ ফোরে, ভারতীয় দলে সেটা ২২ ইনিংসের মধ্যে ১৬বার। ইশান কিষাণের নামও হয়তো আসতে পারে এখানে, কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রেও পরিসংখ্যানটা আইপিএলে ৯০ এর মধ্যে ৮০ বার, আর ভারতের জার্সিতে ৩২ ইনিংসে ৩১ বার। আরো একটা বিকল্প, ধ্রুব জুরেলের এখনো ভারতের হয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে অভিষেকই হয়নি।

    তবে কিপারদের কথা যেহেতু বলাই হচ্ছে, দিনেশ কার্তিকের নামটা না বলা অন্যায় হবে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে ৩৯ বছরে পা রাখা কার্তিক এই আইপিএলে রয়েছেন অসাধারণ ফর্মে, প্রথম ছয় ইনিংস শেষে ৭৫.৩৩ গড় আর ২০৫ স্ট্রাইক রেটে তিনি সংগ্রহ করে ফেলেছেন ২২৬ রান। তবে শেষ পর্যন্ত বয়সটাই হয়ে যেতে পারে তাঁর দলে সুযোগ না পাওয়ার মূল কারণ।

    আক্সারের চেয়ে একটু হলেও এগিয়ে আছেন রবীন্দ্র জাদেজা; Image Source: Getty Images

    ব্যাটিং অর্ডারের সাত নম্বর জায়গাটা একজন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের জন্যই বরাদ্দ রাখবে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট। আক্সার প্যাটেল হয়তো একটু হলেও এগিয়ে থাকবেন সেক্ষেত্রে, তবে আইপিএলে ১২১ স্ট্রাইক রেটটা তাঁর পক্ষে যাচ্ছে না। রবীন্দ্র জাদেজা অবশ্য ১৪০ স্ট্রাইক রেট নিয়ে এদিক থেকে একটু এগিয়ে থাকবেন, কিন্তু ২০২২ এর আগস্টের পর মাত্র দুটো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলাটা তাঁর বিপক্ষে যাবে। শাহবাজ আহমেদ বা ওয়াশিংটন সুন্দর চলমান আইপিএলে তেমন আলো ছড়াতে পারেননি। নম্বর সাতের জন্য তাই আপাতত জাদেজা বা আক্সারকেই সবচেয়ে যোগ্য বলে মনে হচ্ছে।

    আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন বুমরাহ; Image Source: Getty Images

    বাকি রইলো চারটি স্পট। এই চারটি স্পটের মধ্যে জসপ্রীত বুমরাহ এর জায়গা নিশ্চিত। এছাড়া অর্শদীপ সিংও দলে নিজের জায়গাটা অনেকটা নিশ্চিত করে ফেলেছেন। তবে তৃতীয় সিমার হিসেবে কে থাকবেন, সেটার নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। উইকেটের হিসেবে খলিল আহমেদ, মোহিত শর্মা, ইয়াশ ঠাকুর, উমেশ যাদবরা রয়েছেন দৌড়ে, তবে শেষ হাসিটা কে হাসবেন, সেটাই দেখার বিষয়। বাকি রইলো একটা জায়গা। একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনারের জন্য বরাদ্দ সেটা, সময়ে সময়ে দুটোও হতে পারে। বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে একজন রিস্ট স্পিনারকেই নিতে চাইবে ভারত দল। সেক্ষেত্রে দৌড়ে রয়েছেন কুলদীপ যাদব, রবি বিষ্ণই এবং যুজবেন্দ্র চাহাল। চলমান আইপিএলে চাহাল বেশ ভালো পারফর্ম করছেন, তবে বয়স এবং জাতীয় দলের হয়ে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় রবি বিষ্ণইয়েরও উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

    এবার শেষ হাসি হাসবে ভারত? নাকি আরো একবার লিখবে হৃদয়ভঙ্গের উপাখ্যান? Image Source: Getty Images

    এবার তাহলে সংক্ষেপে সমস্যাগুলো দেখা যাক।

    এখন পর্যন্ত যেমনটা দেখা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে ভারতীয় দলে একজন ফর্মহীন ওপেনার উঠছেন। টপ থ্রিয়ের বাকি দুজন ২০২২-এর টি-টোয়েন্টি পরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন শুধুই আফগানিস্তানের বিপক্ষে। একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার যাচ্ছেন, যিনি সম্প্রতি তেমন ভালো বোলিং করেননি। একজন উইকেটকিপার রয়েছেন দলে, যিনি নিজের প্রিয় জায়গায় ব্যাটিং করার সুযোগ পাবেন না। স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারটিও খুব বেশি ভরসার যোগ্য নন। আর একাদশের শেষ চার জনের কেউই ভরসাযোগ্য ব্যাটিংটা পারেন না।

    সব মিলিয়ে, দলে এত এত সীমাবদ্ধতা নিয়ে, আরো একবার হয়তো হৃদয় ভাঙতে যাচ্ছে ভারতীয় সমর্থকদের।

    [ব্যবহৃত সকল তথ্য ১৪ এপ্রিল ২০২৪ পর্যন্ত]